চড়ুই পাখির সংসার

ভরদুপুরে বসেছে চড়ুই পাখির সভা,
কতটা দানা ও কতটা পানির যোগান- তার আলোচনা।
গ্রীষ্মের দাবদাহ বা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ো আবহাওয়া,
নিকেতনের বারান্দায় পক্ষীকূলের অভয় আস্তানা।

জানালা দিয়ে দেখা যায় পরিপাটি সুসজ্জিত ঘর,
তথায় কোন মানবের উদ্যোগে বসে –
দৈনন্দিন চড়ুইয়ের আসর।

দু’মুঠো চাল ও দু’বাটি জল,
তাতে সম্পন্ন কুড়িখানা চড়ুইয়ের ভোজন।
তৃপ্তিভরা প্রাণে পরম প্রশান্তি
তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণের স্থায়ী চাপমুক্তি।

মনের নিভৃতে চড়ুই ভাবে
অবশেষে জীবনে পেলাম বুঝি সুখের আবাসস্থল,
ক্ষুদ্র প্রাণ বুঝবে কিভাবে –
এ পৃথিবীতে সুখ যে অলীক, নশ্বর, ও অনুপল।

এমনি করে একদিন সমাপ্ত ভোজনের আয়োজন,
একসময়ের সাজানো ঘর আজ শূন্য ও নির্জন।
জনমানবহীন ঘরের দিকে চড়ুই অপলক তাকিয়ে রয়,
কত আশায় বাঁধা স্বপ্নের বুঝি এই পরিণয়?

বিচ্ছেদই যদি হয় শেষ বাসনা,
কেনো এতো আয়েশী জীবনের সূচনা?
কেনো এতো স্নেহ-ভালবাসার অনুভূতি
কথা রাখার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?

~ যারিন

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান