• শূন্য প্রতিধ্বনি

    12/15/2025
    গদ্য ও পদ্য

    লোকে কি কয়
    পাছে লোকে কি কয়
    করে কাটলো সময়,
    শূন্যতা, বিষাদগ্রস্ততা,
    ও অসারতা –
    গ্রাসে প্রাণময়।

    ক্ষণস্থায়ী জীবনে
    ক্ষণস্থায়ী প্রাণ
    ক্ষণস্থায়ী সকল সম্পর্ক
    ক্ষণস্থায়ী ভাবমূর্তি ও মান।
    শূন্য আবেগে
    শূন্য প্রতিদান।
    অকালে ঝড়ে পড়ে
    কোনো প্রতিভাবান।

    ভুলে যায় জগতের সহজ হিসাব –
    তুমি যতদিন,
    তোমার পৃথিবী ততদিন
    তোমার বিয়োগে
    তোমার পৃথিবীর মৃত্যু হয়,
    পাছের লোকের নয়।

    ~ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫

    শূন্য প্রতিধ্বনি এ কোন মন্তব্য নেই
  • বিয়োগ

    10/30/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আচ্ছা, শরীর থেকে একটা টুকরো ছিঁড়ে নিলে
    কেমন বোধ হয়?
    তীব্র জ্বালা-যন্ত্রণা?
    প্রথমে শরীর ব্যথায় কাতরায়,
    এরপর নিথর হয়ে যায়।

    অন্তর্ভাগের বিয়োগে প্রয়াণ,
    বহির্ভাগের বিয়োগে সংকুচিত প্রাণ,
    সংকুচিত প্রাণ যেন এক মহাগহ্বর,
    তাতে ধারণ হয় না কোন কিছু।
    মহাকূপের অন্তরালে নিঃস্ব ও নিষ্প্রাণ দেহ,
    সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যেন এক অলীক মোহ।

    ~ যারিন

    ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৫

    বিয়োগ এ কোন মন্তব্য নেই
  • 10/30/2025
    গদ্য ও পদ্য

    মৃত্যুর পর কবর হয়,
    শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে,
    তিন হাত গভীরে।

    এক কবর খনন হয় মৃত্তিকায়,
    আরেকটি হয় হৃদয়ে,
    অবিরাম হৃদয়ে শাবল চালিয়ে
    শুধু কবর খুঁড়ে,
    কিন্তু তাতে দাফন হয় না।
    দিনে- দিনে যেন প্রসারিত হয়
    সেই গর্তের গভীরতা।

    ~ ১৩ই অক্টোবর, ২০২৫

    এ কোন মন্তব্য নেই
  • আমার পাখির স্মরণে

    10/18/2025
    গদ্য ও পদ্য

    পুরোনো কথা রোমন্থনে মনে হয় –
    এই যেন কিছুদিন আগে
    কথা হলো তোর সাথে,
    জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছিস?
    তুই বললি, ভালো আছি,
    কখনোবা এককথায় উত্তর, “চলে”।
    আমি বলতাম, কেমন চলে?
    উত্তরে বলতি, ভালো চলে।

    তোর সেই ছোট ছোট কথাগুলো
    এখনো কানে গুঞ্জরিত হয়,

    – “ভালো তো, ভালো না?”
    বা কোন প্রশ্নের জবাবে
    একটু হেলায় বলা, “জানি না!”

    ছোট্ট সেই জুনাইদ,
    ছোট্ট একটি পাখি,
    জগতের সব ক্লান্তি শেষে
    চোখ তার ঘুমে ভারী।
    এই ঘুম একবার ঘুমালে
    আর ভাঙ্গে না,
    তার কথা ও কন্ঠস্বর
    আর শোনা যায় না।
    জ্যাপু, জ্যাপু, বা আপু আপু করে
    কেউ আর আদর করে ডাকে না,
    তার সব কথা মিলিয়ে গেছে,
    আমার ছোট্ট সোনাপাখিটা
    গভীর একটা ঘুম দিয়েছে।

    আমার পাখির স্মরণে এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবার দেখা হবে

    10/01/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আবার ছুটে আসবি তুই
    বুদ্ধিদীপ্ত হাসিতে,
    স্টিলের স্কেলের তাপধারণ দেখাতে,
    কিংবা নকিয়া ফোনে গেইম দেখাতে।

    আবার ছুটে আসবি তুই
    আমাদের মাঝে
    চারজনের পরিবারে,
    চারজন টেবিলের চারটি কলামের মতন
    দাঁড়াবো এক হয়ে।

    আবার ঘুমানোর সময় বায়না করবি
    নতুন গল্প শোনাতে,
    বোতল ভূতের গল্পটা আরেকবার যেন বলি,
    কিংবা লুকিয়ে লুকিয়ে বালিশের তলা থেকে
    গল্পের বই পড়বি,
    আর আমি পাহাড়া দিবো।

    আবার যখন দেখা হবে
    অনেক বকবো তোকে,
    কি করে চলে গেলি আমাদের ফেলে?
    আমাদের গল্প সব আধখানি রেখে?

    এক টিমের হয়ে ছিলাম দু’জন
    সুখে-দুঃখের সাথী,
    খেলা সব সাঙ্গ করে
    কি করে ফেলে গেলি একা রেখে?
    কি করে উঠে দাঁড়াবো আবার
    এতো বড় এক শূন্যতা নিয়ে,
    ভেতরটা ফুঁটো হয়ে গেল তোকে ছাড়া,
    কোন কিছুই ধারণ করছে না, দুঃখ ছাড়া।

    তাও বলি –
    একদিন দেখা হবে,
    চারজন হবো আবার একসাথে
    আবার হাসিখেলায়, আনন্দে মেতে উঠবো
    ছোট্ট সৈনিক হয়ে তুই ছুটে আসবি আবার
    আমাদের মাঝে, শূন্যস্থানে।

    ~ ১লা অক্টোবর, ২০২৫।

    আবার দেখা হবে এ কোন মন্তব্য নেই
  • মায়ার ট্রেন

    07/26/2025
    গদ্য ও পদ্য

    ঝকঝক করে ট্রেন আসছে প্ল্যাটফর্মে,
    ট্রেনের নাম “মায়া”,
    খ্যাতির মায়া, অর্থের মায়া,
    বিদ্যার মায়া, যশের মায়া।
    মায়ার সম্মেলনে চলছে ট্রেন,
    অনির্দিষ্ট গন্তব্য ও দুর্নিবার তার গতি
    টিকেট মেলে না সহজে,
    মিললে তবে একাদশে বৃহস্পতি।

    সেই ট্রেনের পেছনে ছুটলাম
    বছরের পর বছর,
    কখনও মনে হলো
    এই বুঝি ধরতে পেলাম,
    ঘোর কাটতেই বুঝলাম
    সবই ছিল মোহ।

    ট্রেন ধরার দৌড়ে আমি নইকো একা,
    আমার সাথে দৌড়াচ্ছে
    আমার সকল সাথীরা।
    হঠাৎ পা পিছলে
    ছিটকে পড়লাম মাটিতে,
    এলো না কেউ হাত বাড়িয়ে
    রইলাম পড়ে প্ল্যাটফর্মে।

    দেখলাম এক বিশাল জনসমুদ্র,
    একমুখী তাদের ধাবন
    অপরকে ডিঙিয়ে, মাড়িয়ে, অপসারিত করে
    অসাধ্যকে করবে তারা সাধন।

    এর মাঝে দেখা মেলে
    এক বাউল ফকিরের দল,
    কোন দৌড়ে নেই কোন অভিলাষ,
    আপন খেয়ালে মত্ত তাদের মন।
    মায়ার সকল বাঁধন ছেড়ে,
    আত্মিকতায় শেষ অন্বেষণ।

    ~ যারিন
    ২৭ শে জুলাই, ২০২৫।

    মায়ার ট্রেন এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবৃত্তি

    07/20/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আবৃত্তি করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “মুক্তি” কবিতা, পলাতকা কাব্যগ্রন্থ থেকে। এক গৃহিণীর বাঁধাধরা সংসার থেকে চিরমুক্তির অভিব্যক্তি 🌿

    আবৃত্তি এ কোন মন্তব্য নেই
  • দিনশেষে

    06/23/2025
    গদ্য ও পদ্য

    একখানি কাগজ হাতে,
    এক রক্তঝরা কলমে
    লিখতে বসে দিনলিপি
    কোথা থেকে শুরু –
    কোথায় শেষ
    জানা নেই বিন্যাস রীতি।

    নিস্তব্ধ সান্ধ্যকালে
    উত্তর লিখি
    নিজের প্রশ্নের,
    নির্বোধ, কেন হাঁটলে একই পথে?
    কেন ঝড়ালে লবণ ক্ষতস্থানে?
    কষ্ট এখন বেড়ে দ্বিগুণ
    নিষ্কাশনের পথ নেই,
    হৃদয়ে ছেঁয়েছে আগুন।

    দাবানল গ্রাসে সকল আনন্দ
    পেছনে ফিরে তাকালেও ধূ ধূ প্রান্তর,
    দিনশেষে কেউ কথা রাখেনি,
    কেউ পাশে থাকেনি,
    কেউ বিশ্বাসী হয়ে ওঠেনি।

    ২৩ শে জুন, ২০২৫।
    ~ যারিন

    দিনশেষে এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবৃত্তি

    06/18/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আমার প্রথম কবিতা আবৃত্তি, কোন ভুল হলে মার্জনা করবেন।
    পাঠ করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতাটি💕

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতা আবৃত্তি।
    আবৃত্তি এ কোন মন্তব্য নেই
  • মাটির পুতুল

    05/25/2025
    গদ্য ও পদ্য

    ঝিনুকের মালা বুনবে,
    লাল শাড়ি গায়ে
    মাটির পুতুলের বিয়ে হবে,
    ভোজনের আসর তাই।

    পুতুল খেলার পাঠ চুকিয়ে
    কিশোরীর আজ তারুণ্যে পদার্পণ,
    বিবাহের দিন ধার্য্য হয়েছে,
    বাড়িতে আবারও ভোজনের আয়োজন।

    ট্রাকে করে ভারী আসবাব,
    স্বর্ণ-হীরক-অলংকার,
    যৌতুক নয় এসবই
    এগুলো নাকি বাবার দেওয়া “উপহার”।
    উপহারের তালিকা যখন ঊর্ধ্বগতি,
    বধূর মন ততই নিম্নগতি
    কি জানি কিসের সে এতো বোঝা
    যাকে কাঁধ থেকে সরানোই একমাত্র সাধনা।

    অবশেষ ঘুঁচলো সব তথাকথিত সামাজিকতা,
    বর ও বধূর হলো নতুন সংসারের সূচনা।
    নতুন ঘর, নতুন মাটি,
    তাতে পুড়েই সোনা হবে খাঁটি।
    খাঁটি হওয়ার অধ্যাবসায়ে
    সোনার ঝলক স্মিত,
    সূর্যের রশ্মি ঢোকে না তাতে
    আঁধারের গ্রাসে সকল কিরণ মৃত।

    তাই আজ শুধাই –
    মৃত্যু কি শুধু শরীরের?
    মনের কি মৃত্যু নেই?
    বেঁচে থেকেও যে প্রাণহীন
    সেই জীবন্ত লাশের সমাধি কই?

    যতবার এক এক করে সূর্যের মৃত্যু হয়
    ততবার কি হয় একটি করে সূর্যগ্রহণ?
    হয়কি জানাযা, দোয়া মাহফিল,
    পুরোনো সব স্মৃতির দাফন?

    সং সেজে সংসার-সংসার খেলতে গিয়ে,
    রংহীন, প্রাণহীন আজ তার বদনখানি,
    কি জানি হয়তো খুব শীঘ্রই
    মাটির পুতুল হবে মাটি।

    ~ যারিন
    ২৫শে মে, ২০২৫

    মাটির পুতুল এ কোন মন্তব্য নেই
  • আমিত্ব

    04/06/2025
    গদ্য ও পদ্য

    সাম্প্রতিককালে লোকমুখে “আমিত্বের” গুঞ্জন খুব শোনা যায়। “আত্মপ্রেম”, “আত্মসম্মানবোধ”, “আত্মবিশ্বাস”, “আত্মমর্যাদা”, ইত্যাদি মানসিকস্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে উপকারী। এর বিপরীত ঘটে যখন মানুষ তার আমিত্বকে প্রকট রেখে বাকি অস্তিত্বকে প্রচ্ছন্ন/ তার তরে ভাবে। এ ব্যাপারে খানিক মনোনিবেশ করলেই বোঝা যায় আমাদের কথা, চলা, পড়া, প্রতিক্রিয়া সবকিছুরই উৎপত্তি অন্যের থেকে শিক্ষালাভ করে। মাতৃভাষাও মায়ের পেটে শিখে আসিনি, বরং পৃথিবীতে আগমণের পর তা শেখানো বুলি। আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভদ্রতা, শালীনতাও আমাদের শিক্ষার প্রতিফলন। একে সংক্ষেপে বললে,

    তুমি + তুমি + তুমি +…. + তুমি^∞ = আমি
    এখানে “তুমি” বলতে জগতে যা “আমি” নয় তা বোঝানো হয়েছে।

    বিশ্ব এ পাঠশালায় আমাদের মাঝে শুধু পার্থক্য হলো কে কত ভালো শিক্ষার্থী। কোন শিক্ষার্থী বিশ্লেষনসহ শিখে আর কোন শিক্ষার্থী না বুঝেই মুখস্ত করে। মুখস্তবিদ্যায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কিংবা বিবেক-বুদ্ধিরও সম্প্রসারণ সম্ভব নয়, জ্ঞানের ভাণ্ডারও সীমিত থাকে। সীমিতজ্ঞানে অহংকার ও মাৎসর্যের সম্প্রসারণ ঘটে, যার ফলস্বরূপ আমিত্বের গরিমা ফুলেফেঁপে ওঠে।

    ~ যারিন
    ৫ই এপ্রিল, ২০২৫।

    আমিত্ব এ কোন মন্তব্য নেই
  •                             ক্রোধাগ্নি

    04/01/2025
    গদ্য ও পদ্য

    দূর্নিবার ঘূর্ণি
    ও অতিকায় অগ্নি,
    সন্নিযোগে রূপ তার মহা প্রলয়ংকারী
    প্রবলবেগে ধেয়ে চলে বহ্নি তরঙ্গিনী,
    এক অনিশ্চিত ঠিকানায় –
    এক বিনাশকারী তাণ্ডবলীলায় –
    একরাশ ক্রোধের সমারোহ সমীরণে।

    আজ জীব, উদ্ভিদ, পক্ষীকূল নির্বিশেষে
    অগ্নিস্ফুলিঙ্গে দগ্ধ ভস্মে,
    অদূরে মেঘরাজও নিশ্চুপ ও নিস্তব্ধে
    বহ্নিনৃত্য দেখে শূন্য দৃষ্টিতে।

    ধরার এই ক্রোধের উৎপত্তি কি একদিনে?
    নাকি শত শত বছরের অবহেলার পরিণামে?
    দূষণের উপর দূষণের স্তূপ ধরার বুকে,
    তারই আর্তনাদ আজ হিংস্র অগ্নিরূপে।

    ক্রোধ শান্ত হলেও চারিদিকে ছেয়ে গেছে অশান্তি,
    ধরণীকে অশান্ত করে কে পেয়েছে কবে শান্তি?

    ~ যারিন সুবাহ্
    ১লা এপ্রিল, ২০২৫।

                                ক্রোধাগ্নি এ কোন মন্তব্য নেই
  • “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া

    02/20/2025
    গদ্য ও পদ্য

    যেমন করে একটি দেশের বিভিন্ন নীতিমালা, আইনকানুন, ও বিধিনিষেধ থাকে, তেমনি একজন মানুষের মাঝে আছে বহু সীমারেখা; তা হোক সহনশক্তির বা শৃংখলার, এর লঙ্ঘন মানুষের কাছে কাম্য নয়। এভাবে দেখলে প্রতিটি মানুষ আসলে একটি “দেশের” রূপক, নিজের মাঝে বহু ঐতিহ্য ও শৃংখলা বহন করে চলেছে। নিজের জনগণের (পরিবারের) স্বার্থে বহু ত্যাগও স্বীকার করে, বহু স্বপ্নের অকালে মৃত্যু ঘটে। অপর দেশের সাথে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে বিয়ে বা বন্ধুত্বের মাধ্যমে। কিন্তু তার মাঝে অশান্তি সৃষ্টি হলে দেশে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়; নিজের সীমানা বাঁচাতে বহু প্রাণের মাশুল দেওয়া লাগে।

    এতো দ্বন্দ্বের মাঝে বিধিনিষেধহীন, রীতিনীতিশূন্য স্থান হলো “অনিকেত প্রান্তর”, যার আক্ষরিক অর্থ হলো – দু’টি দেশের মাঝে মালিকানাহীন, জনমানবশূন্য স্থান। এই প্রান্তর মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিছু নয়, মানবচিন্তা ও কল্পনাশক্তিই মানুষের অনিকেত প্রান্তর। হয়তো তার প্রয়োগ বাস্তব জীবনে দুরূহ, কিন্তু তাই বলে মানব মনস্তত্ত্বে যে অনিকেত প্রান্তর রয়েছে, তার উপস্থিতি আড়াল করা উচিৎ নয়। এতে সীমার মাঝেও যে অসীম রয়েছে তাকে হারাতে হয়।

    ~ যারিন

    “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া এ কোন মন্তব্য নেই
  • নিজের সাথে বোঝাপড়া

    12/31/2024
    গদ্য ও পদ্য

    শোনা কথা,
    গল্পকথা,
    ঝুড়িঝুড়ি মিথ্যাকথা,
    সত্য সেথায় রূপকথা
    অলীক তার বিরাজতা।

    অন্তরে গভীর দুঃখরাশি
    তবে মুখে সদাই হাসি,
    হাসিমুখে ঢাকে অবসাদ
    দীনহীন, গরীবের উজ্জ্বল প্রাসাদ।

    সত্য ঢাকার এক অদ্ভুত খেলা
    তাতে ফুরায় সারাবেলা,
    খেলতে খেলতে আজ শুধি –
    সত্য কি তা মনে আছে বুঝি?
    নাকি মিথ্যের স্তুপে পড়লো চাপা?
    নকল হাসি কেড়ে নিলো মলিন চেহারা।
    হয় কি আজও ঘরে ফেরা?
    নিজের সাথে বোঝাপড়া?

    ~ যারিন
    – ৩১শে ডিসেম্বর,২০২৪।

    নিজের সাথে বোঝাপড়া এ কোন মন্তব্য নেই
  • ভয়

    08/20/2024
    গদ্য ও পদ্য

    ভয় আর ভালোবাসা কি চলে সমান্তরালে?
    নাকি ভয় আর শ্রদ্ধা?
    যার ভয়ে নিথর দেহ ও স্বত্তা,
    চিত্তে কেবল তার ক্ষমতার আনুগত্যের বিরাজতা।

    মাথানত সম্মোহনে কি জন্মে প্রেমের গান?
    আজ্ঞাবহ প্রাণে মৃত স্বতঃস্ফূর্ত টান।


    ~ যারিন

    ভয় এ কোন মন্তব্য নেই
  • ফুলের গান

    06/02/2024
    গদ্য ও পদ্য
    ফুলের গান

    একগোছা গোলাপ ও রজনীগন্ধা,
    একরাশ মিষ্টি ঘ্রাণ,
    এক ফালি রোদ ও
    একদল হাওয়ার তালে
    বেজে ওঠে পাঁপড়ির গান।

    পাঁপড়ির মাঝে সুনিপুণ কলা,
    কত সূক্ষ্ম সব শিরোরেখা ,
    অধরা হাসিতে অস্থায়ী সত্তা,
    তাও চাহনীতে কত আনন্দ লেখা।

    শিকড়হীন পুষ্পের সীমিত সময়কাল,
    শুকনো ও রিক্ত অবয়বে তার স্থান
    বইয়ের পাতায় চিরকাল।

    ~ যারিন

    ফুলের গান এ কোন মন্তব্য নেই
  • চড়ুই পাখির সংসার

    05/21/2024
    গদ্য ও পদ্য
    চড়ুই পাখির সংসার

    ভরদুপুরে বসেছে চড়ুই পাখির সভা,
    কতটা দানা ও কতটা পানির যোগান- তার আলোচনা।
    গ্রীষ্মের দাবদাহ বা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ো আবহাওয়া,
    নিকেতনের বারান্দায় পক্ষীকূলের অভয় আস্তানা।

    জানালা দিয়ে দেখা যায় পরিপাটি সুসজ্জিত ঘর,
    তথায় কোন মানবের উদ্যোগে বসে –
    দৈনন্দিন চড়ুইয়ের আসর।

    দু’মুঠো চাল ও দু’বাটি জল,
    তাতে সম্পন্ন কুড়িখানা চড়ুইয়ের ভোজন।
    তৃপ্তিভরা প্রাণে পরম প্রশান্তি
    তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণের স্থায়ী চাপমুক্তি।

    মনের নিভৃতে চড়ুই ভাবে
    অবশেষে জীবনে পেলাম বুঝি সুখের আবাসস্থল,
    ক্ষুদ্র প্রাণ বুঝবে কিভাবে –
    এ পৃথিবীতে সুখ যে অলীক, নশ্বর, ও অনুপল।

    এমনি করে একদিন সমাপ্ত ভোজনের আয়োজন,
    একসময়ের সাজানো ঘর আজ শূন্য ও নির্জন।
    জনমানবহীন ঘরের দিকে চড়ুই অপলক তাকিয়ে রয়,
    কত আশায় বাঁধা স্বপ্নের বুঝি এই পরিণয়?

    বিচ্ছেদই যদি হয় শেষ বাসনা,
    কেনো এতো আয়েশী জীবনের সূচনা?
    কেনো এতো স্নেহ-ভালবাসার অনুভূতি
    কথা রাখার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?

    ~ যারিন

    চড়ুই পাখির সংসার এ কোন মন্তব্য নেই
  • বৈষম্য

    04/28/2024
    গদ্য ও পদ্য

    গ্রীষ্মের মধ্যাহ্নে নির্জন ঝিলের পাড়,
    সেখানে আজ এক ঝাঁক মাছরাঙার সমাহার।
    শান্তপাখির সূক্ষ্ম দৃষ্টি জলে নিবদ্ধ,
    জলতরঙ্গে সন্ধানে মাছের অস্তিত্ব।

    পরক্ষণে জলের পৃষ্ঠে উঁকি দেয় মাছ
    ঝাপসা চোখে বায়ুর সন্নিধান।
    তার দৃষ্টিতে আটকায় বাহারী পক্ষীকূল,
    ওদিকে মাছরাঙার মনোনিবেশ লক্ষ্যে ব্যাকুল।

    পাখির অবধানে শিকারের ফাঁদ,
    মাছের মনে তখন বাঁচার আর্তনাদ।
    প্রকৃতির কি করুণ বিধান –
    কারো আহার,
    তো কারো প্রাণের সংহার।

    যুগে যুগে এভাবেই বয়ে চলে প্রকৃতির ধারা,
    বাস্তুসংস্থানের প্রকট নিয়মমালা।
    উচ্চস্তরের প্রাণীর খাদ্য নিম্নস্তরের প্রাণী,
    বড় মাছের অন্নজালে ছোট মাছের সারি।

    আর নিম্নস্তরের প্রাণীর খাদ্য বৃক্ষ, লতা-পাতা,
    তেমনি করে প্রাচুর্য্যতার খাদ্য দারিদ্রতা।

    দারিদ্রতাকেই দাবিয়ে চলছে ক্ষমতার পর্বতারোহণ,
    চিরকাল তাই দুর্বলের উপর সবলের অনুশাসন।
    কার বিজয়, কার পরাজয়,
    কে করবে তা নির্ণয়?
    হোক ধনী বা গরীব, মাছ বা পাখি –
    পরিশেষে সকল জীবের ভাগ্যে একই পরিণতি
    মহাকালের গহ্বরে প্রত্যেকের চিরসমাপ্তি।

    ~ যারিন

    বৈষম্য এ কোন মন্তব্য নেই
  • নিরন্তর স্রোতস্বিনী

    02/02/2024
    গদ্য ও পদ্য
    নিরন্তর স্রোতস্বিনী

    পৌষের রাতে, নির্জন আঁধারে
    একা নদীর পাড়ে,
    মনের মাঝে আজ স্মৃতিরা কড়া নাড়ে।
    ঝিরিঝিরি বাতাস
    আর কুয়াশার আভাস,
    আড়ালে হাজারো তারার মেলা,
    তারার হাটে আজ বসেছে নীহারিকার খেলা।

    কুয়াশায় ঘেরা নক্ষত্রের চাঁদরে
    নদীর কালো জলের প্রবাহ,
    দূষিত জল, দূষিত মন,
    দূষিত হৃদয়ে আজ দূষিত স্মৃতিচারণ।

    কলুষিত স্মৃতির নিদারুণ মর্মপীড়া,
    কত আশাভঙ্গ, কত কপটতায় ঘেরা,
    তারপরও মন নিরাশায় আশা খোঁজে,
    নদীর বুকে তারকারশ্মির প্রতিবিম্ব সন্ধানে।

    হোক দূষিত, বা পরিচ্ছন্ন,
    স্রোতস্বিনী তার আপন ধর্মে মগ্ন।
    নিভৃতে সকল বাঁধা পেরিয়ে
    বয়ে চলে অবিচ্ছিন্নভাবে।

    ~ যারিন

    নিরন্তর স্রোতস্বিনী এ কোন মন্তব্য নেই
  • আলোর অন্বেষণ

    12/23/2023
    গদ্য ও পদ্য
    আলোর অন্বেষণ

    কপটতা ও স্বার্থপরতার পৃথিবীতে
    সাজানো সব কৃত্রিম আলোকরাশি,
    লোভ, হিংসা, ও বিশ্বাসঘাতকতা
    সর্বস্থলে মিথ্যের আতশবাজি।

    ঝলমলে সব মেকী আলোয়
    অভ্যন্তর আজ আলোকহীন,
    সত্যের প্রদীপ অস্তমিত প্রায়
    মনুষ্যত্বের দীপ্তি ক্ষীণ।

    কে কাকে ঠকালো
    সেই বিজয়ে জ্বলে
    আত্মঅহংকারের বাতি –
    সত্যকে জীবন্ত কবর দিয়ে
    মিথ্যের আলোয় হয় আত্মঘাতী।

    ভুলে যায় –
    অন্তিমে নিকষকালো অন্ধকার,
    এখানে নেই কোন কপটতার
    নকল কিরণমালা,
    সাড়ে তিন হাত মাটির গহ্বর
    যেথায় আসন্ন অতীব যন্ত্রণা।

    সৎকর্ম, স্বত্বত্যাগ, ও মানবতা,
    আঁধারের বুকে আশার বার্তা,
    সে আলো নয় কৃত্রিম, নয় জমকালো,
    ঘন তমসায় নীরবে প্রজ্জ্বলিত –
    এক সলতে আলো।

    ~ যারিন

    আলোর অন্বেষণ এ কোন মন্তব্য নেই
  • গন্তব্য

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    সমুদ্রের মাঝে নৌকা নিয়ে
    বৈঠা বেয়ে চলি,
    আমিই যাত্রী, আমিই মাঝি,
    অথৈ সমুদ্রে দিলাম পাড়ি।

    একটু হাত ফসকালেই দারুণ বিপদ
    হতে পারে নৌকাডুবি,
    চারিদিকে সব মাংসখেকো ভয়ংকর প্রাণী,
    তারই মাঝে আমি একা বৈঠা টানি।

    সুদূরে দেখা যায় সবুজের রেখা
    আলোর হাতছানি,
    বৈঠা বেয়ে পৌঁছাতে হবে আমায়
    প্রতিটি মুহূর্ত যে খুব দামী।

    তারই মাঝে বহু শঙ্কা, বহু বাঁধা,
    নৌকাডুবির বিশাল ঝুঁকি,
    আমি একা বৈঠা হাতে,
    সুদূরপুর আর কত দেরী?

    ~ যারিন

    গন্তব্য এ কোন মন্তব্য নেই
  • মনুষ্যত্ব

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    স্বার্থের জালে ঘেরা মানুষ
    মনের ঘরে শুধু স্বার্থের সঞ্চারণ,
    দরজার এককোণে দাঁড়িয়ে মনুষ্যত্ব ভাবে,
    কবে হবে সেই ঘরে আমার বিচরণ?

    আত্মঅহংকারে আমিত্বের বাইরে কিছু দেখতে না পারে,
    “আমি, আমিই” প্রধান চরিত্র যেখানে
    সেখানে আমি যে বহু তুমির সম্মিলন,
    তা উপলব্ধি করতে না পারে।
    চারিদিকে মানুষ যখন ক্ষুধার্ত, যুদ্ধে নিপীড়িত ও বাস্তুহারা,
    হৃদয় কাঁদে না তাতে –
    কাঁদে শুধু যখন পড়ে অর্থের ব্যবসায় ভাটা।

    জীবন যদি হয় দেওয়া-নেওয়ার,
    লাভ-লোকসানের খাতা,
    তাহলে সেই খাতায় থাকা চাই –
    কতটুকু নিলাম পৃথিবী থেকে
    ও কতটুকু দিয়ে গেলাম এই পৃথিবীকে
    তার হিসানামা।

    ~ যারিন

    মনুষ্যত্ব এ কোন মন্তব্য নেই
  • ঝড়াপাতা

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য
    ঝড়াপাতা

    লালপাতা, হলুদ পাতা, কমলাপাতা,
    বাহারীরঙের পাতার বাহার,
    ঝড়ে যায় –
    এক শীতল কণকণে বায়ুপ্রবাহ
    উড়িয়ে নিয়ে যায় বৃক্ষ থেকে বাহারীরঙের পাতাগুলোকে
    বাহারীপাতা তখন প্রাণহীন ঝড়াপাতা ~

    রাস্তাঘাট, মাঠপার্ক, যেদিকে চোখ যায়
    চারিদিকে ঝড়াপাতার শ্মশান
    তার উপর প্রতিনিয়ত মাড়িয়ে চলছে মানুষ
    আর ঝড়াপাতা শোনায় তার বুক চিড়ে আর্তনাদ।
    ঠিক যেমন করে মৃত্যুর পূর্বে ছটফট করে প্রাণ,
    বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টায়
    মাড়িয়ে যাওয়া ঝড়াপাতাগুলোও কেঁদে ওঠে শেষবারের মতন।

    ~ যারিন

    ঝড়াপাতা এ কোন মন্তব্য নেই
  • সমুদ্রসম ভালোবাসা

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    ভালবাসা সমুদ্রের মতন।
    সমুদ্রে যেমন জোয়াড় আসে, উত্তাল ও প্রবল হয় ঢেউ,
    তেমনি করে ভালোবাসাও ক্ষণে ক্ষণে উত্তাল হয়।
    সাইক্লোন বা ঝড় এলে সে ভালোবাসা হয় বিধ্বংসী, ধ্বংসলীলায় কত প্রাণের ক্ষতি করে ফেলবে তা জানা নেই।
    আবার ভাটাও আসে ভালোবাসায়, শীতল বায়ু বয়।
    ঢেউ কমে যায়, স্থিত হয় উত্তালতা। সমুদ্র হয় শান্ত, যেন সমুদ্র তখন নিজের অবস্থান ও খেয়ালে মন দিয়েছে।
    ভাটা এলে হয়তো মনে হতে পারে ভালোবাসা কমে এসেছে। কিন্তু তা ক্ষণিকের শান্তরুপ মাত্র। সমুদ্রের উপর বিশ্বাস না হারালে জানবে, আবার উত্তাল হবে সেই সমুদ্র, আবার আসবে ঝড়, আবার হবে প্রবলভাবে একে অপরকে কাছে টেনে নেওয়া ।

    ~ যারিন

    সমুদ্রসম ভালোবাসা এ কোন মন্তব্য নেই
1 2 3
পরবর্তী পৃষ্ঠা

Blog at WordPress.com.

মেঘের গান

– যারিন সুবাহ্

  • About
  • Contact
  • গ্রাহক হন Subscribed
    • মেঘের গান
    • Already have a WordPress.com account? Log in now.
    • মেঘের গান
    • গ্রাহক হন Subscribed
    • নিবন্ধন
    • লগ ইন
    • Report this content
    • View site in Reader
    • সদস্যতা তৈরি করুন
    • Collapse this bar