ঝিনুকের মালা বুনবে,
লাল শাড়ি গায়ে
মাটির পুতুলের বিয়ে হবে,
ভোজনের আসর তাই।
পুতুল খেলার পাঠ চুকিয়ে
কিশোরীর আজ তারুণ্যে পদার্পণ,
বিবাহের দিন ধার্য্য হয়েছে,
বাড়িতে আবারও ভোজনের আয়োজন।
ট্রাকে করে ভারী আসবাব,
স্বর্ণ-হীরক-অলংকার,
যৌতুক নয় এসবই
এগুলো নাকি বাবার দেওয়া “উপহার”।
উপহারের তালিকা যখন ঊর্ধ্বগতি,
বধূর মন ততই নিম্নগতি
কি জানি কিসের সে এতো বোঝা
যাকে কাঁধ থেকে সরানোই একমাত্র সাধনা।
অবশেষ ঘুঁচলো সব তথাকথিত সামাজিকতা,
বর ও বধূর হলো নতুন সংসারের সূচনা।
নতুন ঘর, নতুন মাটি,
তাতে পুড়েই সোনা হবে খাঁটি।
খাঁটি হওয়ার অধ্যাবসায়ে
সোনার ঝলক স্মিত,
সূর্যের রশ্মি ঢোকে না তাতে
আঁধারের গ্রাসে সকল কিরণ মৃত।
তাই আজ শুধাই –
মৃত্যু কি শুধু শরীরের?
মনের কি মৃত্যু নেই?
বেঁচে থেকেও যে প্রাণহীন
সেই জীবন্ত লাশের সমাধি কই?
যতবার এক এক করে সূর্যের মৃত্যু হয়
ততবার কি হয় একটি করে সূর্যগ্রহণ?
হয়কি জানাযা, দোয়া মাহফিল,
পুরোনো সব স্মৃতির দাফন?
সং সেজে সংসার-সংসার খেলতে গিয়ে,
রংহীন, প্রাণহীন আজ তার বদনখানি,
কি জানি হয়তো খুব শীঘ্রই
মাটির পুতুল হবে মাটি।
~ যারিন
২৫শে মে, ২০২৫