
-
লোকে কি কয়
পাছে লোকে কি কয়
করে কাটলো সময়,
শূন্যতা, বিষাদগ্রস্ততা,
ও অসারতা –
গ্রাসে প্রাণময়।ক্ষণস্থায়ী জীবনে
ক্ষণস্থায়ী প্রাণ
ক্ষণস্থায়ী সকল সম্পর্ক
ক্ষণস্থায়ী ভাবমূর্তি ও মান।
শূন্য আবেগে
শূন্য প্রতিদান।
অকালে ঝড়ে পড়ে
কোনো প্রতিভাবান।ভুলে যায় জগতের সহজ হিসাব –
তুমি যতদিন,
তোমার পৃথিবী ততদিন
তোমার বিয়োগে
তোমার পৃথিবীর মৃত্যু হয়,
পাছের লোকের নয়।~ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫
-
আচ্ছা, শরীর থেকে একটা টুকরো ছিঁড়ে নিলে
কেমন বোধ হয়?
তীব্র জ্বালা-যন্ত্রণা?
প্রথমে শরীর ব্যথায় কাতরায়,
এরপর নিথর হয়ে যায়।অন্তর্ভাগের বিয়োগে প্রয়াণ,
বহির্ভাগের বিয়োগে সংকুচিত প্রাণ,
সংকুচিত প্রাণ যেন এক মহাগহ্বর,
তাতে ধারণ হয় না কোন কিছু।
মহাকূপের অন্তরালে নিঃস্ব ও নিষ্প্রাণ দেহ,
সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যেন এক অলীক মোহ।~ যারিন
২৯ শে অক্টোবর, ২০২৫
-
মৃত্যুর পর কবর হয়,
শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে,
তিন হাত গভীরে।এক কবর খনন হয় মৃত্তিকায়,
আরেকটি হয় হৃদয়ে,
অবিরাম হৃদয়ে শাবল চালিয়ে
শুধু কবর খুঁড়ে,
কিন্তু তাতে দাফন হয় না।
দিনে- দিনে যেন প্রসারিত হয়
সেই গর্তের গভীরতা।~ যারিন
১৩ই অক্টোবর, ২০২৫। -
পুরোনো কথা রোমন্থনে মনে হয় –
এই যেন কিছুদিন আগে
কথা হলো তোর সাথে,
জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছিস?
তুই বললি, ভালো আছি,
কখনোবা এককথায় উত্তর, “চলে”।
আমি বলতাম, কেমন চলে?
উত্তরে বলতি, ভালো চলে।তোর সেই ছোট ছোট কথাগুলো
এখনো কানে গুঞ্জরিত হয়,– “ভালো তো, ভালো না?”
বা কোন প্রশ্নের জবাবে
একটু হেলায় বলা, “জানি না!”ছোট্ট সেই জুনাইদ,
ছোট্ট একটি পাখি,
জগতের সব ক্লান্তি শেষে
চোখ তার ঘুমে ভারী।
এই ঘুম একবার ঘুমালে
আর ভাঙ্গে না,
তার কথা ও কন্ঠস্বর
আর শোনা যায় না।
জ্যাপু, জ্যাপু, বা আপু আপু করে
কেউ আর আদর করে ডাকে না,
তার সব কথা মিলিয়ে গেছে,
আমার ছোট্ট সোনাপাখিটা
গভীর একটা ঘুম দিয়েছে। -
আবার ছুটে আসবি তুই
বুদ্ধিদীপ্ত হাসিতে,
স্টিলের স্কেলের তাপধারণ দেখাতে,
কিংবা নকিয়া ফোনে গেইম দেখাতে।আবার ছুটে আসবি তুই
আমাদের মাঝে
চারজনের পরিবারে,
চারজন টেবিলের চারটি কলামের মতন
দাঁড়াবো এক হয়ে।আবার ঘুমানোর সময় বায়না করবি
নতুন গল্প শোনাতে,
বোতল ভূতের গল্পটা আরেকবার যেন বলি,
কিংবা লুকিয়ে লুকিয়ে বালিশের তলা থেকে
গল্পের বই পড়বি,
আর আমি পাহাড়া দিবো।আবার যখন দেখা হবে
অনেক বকবো তোকে,
কি করে চলে গেলি আমাদের ফেলে?
আমাদের গল্প সব আধখানি রেখে?এক টিমের হয়ে ছিলাম দু’জন
সুখে-দুঃখের সাথী,
খেলা সব সাঙ্গ করে
কি করে ফেলে গেলি একা রেখে?
কি করে উঠে দাঁড়াবো আবার
এতো বড় এক শূন্যতা নিয়ে,
ভেতরটা ফুঁটো হয়ে গেল তোকে ছাড়া,
কোন কিছুই ধারণ করছে না, দুঃখ ছাড়া।তাও বলি –
একদিন দেখা হবে,
চারজন হবো আবার একসাথে
আবার হাসিখেলায়, আনন্দে মেতে উঠবো
ছোট্ট সৈনিক হয়ে তুই ছুটে আসবি আবার
আমাদের মাঝে, শূন্যস্থানে।~ ১লা অক্টোবর, ২০২৫।
-
ঝকঝক করে ট্রেন আসছে প্ল্যাটফর্মে,
ট্রেনের নাম “মায়া”,
খ্যাতির মায়া, অর্থের মায়া,
বিদ্যার মায়া, যশের মায়া।
মায়ার সম্মেলনে চলছে ট্রেন,
অনির্দিষ্ট গন্তব্য ও দুর্নিবার তার গতি
টিকেট মেলে না সহজে,
মিললে তবে একাদশে বৃহস্পতি।সেই ট্রেনের পেছনে ছুটলাম
বছরের পর বছর,
কখনও মনে হলো
এই বুঝি ধরতে পেলাম,
ঘোর কাটতেই বুঝলাম
সবই ছিল মোহ।ট্রেন ধরার দৌড়ে আমি নইকো একা,
আমার সাথে দৌড়াচ্ছে
আমার সকল সাথীরা।
হঠাৎ পা পিছলে
ছিটকে পড়লাম মাটিতে,
এলো না কেউ হাত বাড়িয়ে
রইলাম পড়ে প্ল্যাটফর্মে।দেখলাম এক বিশাল জনসমুদ্র,
একমুখী তাদের ধাবন
অপরকে ডিঙিয়ে, মাড়িয়ে, অপসারিত করে
অসাধ্যকে করবে তারা সাধন।এর মাঝে দেখা মেলে
এক বাউল ফকিরের দল,
কোন দৌড়ে নেই কোন অভিলাষ,
আপন খেয়ালে মত্ত তাদের মন।
মায়ার সকল বাঁধন ছেড়ে,
আত্মিকতায় শেষ অন্বেষণ।~ যারিন
২৭ শে জুলাই, ২০২৫। -
আবৃত্তি করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “মুক্তি” কবিতা, পলাতকা কাব্যগ্রন্থ থেকে। এক গৃহিণীর বাঁধাধরা সংসার থেকে চিরমুক্তির অভিব্যক্তি 🌿
-
একখানি কাগজ হাতে,
এক রক্তঝরা কলমে
লিখতে বসে দিনলিপি
কোথা থেকে শুরু –
কোথায় শেষ
জানা নেই বিন্যাস রীতি।নিস্তব্ধ সান্ধ্যকালে
উত্তর লিখি
নিজের প্রশ্নের,
নির্বোধ, কেন হাঁটলে একই পথে?
কেন ঝড়ালে লবণ ক্ষতস্থানে?
কষ্ট এখন বেড়ে দ্বিগুণ
নিষ্কাশনের পথ নেই,
হৃদয়ে ছেঁয়েছে আগুন।দাবানল গ্রাসে সকল আনন্দ
পেছনে ফিরে তাকালেও ধূ ধূ প্রান্তর,
দিনশেষে কেউ কথা রাখেনি,
কেউ পাশে থাকেনি,
কেউ বিশ্বাসী হয়ে ওঠেনি।২৩ শে জুন, ২০২৫।
~ যারিন -
আমার প্রথম কবিতা আবৃত্তি, কোন ভুল হলে মার্জনা করবেন।
পাঠ করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতাটি💕রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতা আবৃত্তি।