এড়িয়ে লেখায় যান
  • আমার পাখির স্মরণে

    10/18/2025
    গদ্য ও পদ্য

    পুরোনো কথা রোমন্থনে মনে হয় –
    এই যেন কিছুদিন আগে
    কথা হলো তোর সাথে,
    জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছিস?
    তুই বললি, ভালো আছি,
    কখনোবা এককথায় উত্তর, “চলে”।
    আমি বলতাম, কেমন চলে?
    উত্তরে বলতি, ভালো চলে।

    তোর সেই ছোট ছোট কথাগুলো
    এখনো কানে গুঞ্জরিত হয়,

    – “ভালো তো, ভালো না?”
    বা কোন প্রশ্নের জবাবে
    একটু হেলায় বলা, “জানি না!”

    ছোট্ট সেই জুনাইদ,
    ছোট্ট একটি পাখি,
    জগতের সব ক্লান্তি শেষে
    চোখ তার ঘুমে ভারী।
    এই ঘুম একবার ঘুমালে
    আর ভাঙ্গে না,
    তার কথা ও কন্ঠস্বর
    আর শোনা যায় না।
    জ্যাপু, জ্যাপু, বা আপু আপু করে
    কেউ আর আদর করে ডাকে না,
    তার সব কথা মিলিয়ে গেছে,
    আমার ছোট্ট সোনাপাখিটা
    গভীর একটা ঘুম দিয়েছে।

    আমার পাখির স্মরণে এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবার দেখা হবে

    10/01/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আবার ছুটে আসবি তুই
    বুদ্ধিদীপ্ত হাসিতে,
    স্টিলের স্কেলের তাপধারণ দেখাতে,
    কিংবা নকিয়া ফোনে গেইম দেখাতে।

    আবার ছুটে আসবি তুই
    আমাদের মাঝে
    চারজনের পরিবারে,
    চারজন টেবিলের চারটি কলামের মতন
    দাঁড়াবো এক হয়ে।

    আবার ঘুমানোর সময় বায়না করবি
    নতুন গল্প শোনাতে,
    বোতল ভূতের গল্পটা আরেকবার যেন বলি,
    কিংবা লুকিয়ে লুকিয়ে বালিশের তলা থেকে
    গল্পের বই পড়বি,
    আর আমি পাহাড়া দিবো।

    আবার যখন দেখা হবে
    অনেক বকবো তোকে,
    কি করে চলে গেলি আমাদের ফেলে?
    আমাদের গল্প সব আধখানি রেখে?

    এক টিমের হয়ে ছিলাম দু’জন
    সুখে-দুঃখের সাথী,
    খেলা সব সাঙ্গ করে
    কি করে ফেলে গেলি একা রেখে?
    কি করে উঠে দাঁড়াবো আবার
    এতো বড় এক শূন্যতা নিয়ে,
    ভেতরটা ফুঁটো হয়ে গেল তোকে ছাড়া,
    কোন কিছুই ধারণ করছে না, দুঃখ ছাড়া।

    তাও বলি –
    একদিন দেখা হবে,
    চারজন হবো আবার একসাথে
    আবার হাসিখেলায়, আনন্দে মেতে উঠবো
    ছোট্ট সৈনিক হয়ে তুই ছুটে আসবি আবার
    আমাদের মাঝে, শূন্যস্থানে।

    ~ ১লা অক্টোবর, ২০২৫।

    আবার দেখা হবে এ কোন মন্তব্য নেই
  • মায়ার ট্রেন

    07/26/2025
    গদ্য ও পদ্য

    ঝকঝক করে ট্রেন আসছে প্ল্যাটফর্মে,
    ট্রেনের নাম “মায়া”,
    খ্যাতির মায়া, অর্থের মায়া,
    বিদ্যার মায়া, যশের মায়া।
    মায়ার সম্মেলনে চলছে ট্রেন,
    অনির্দিষ্ট গন্তব্য ও দুর্নিবার তার গতি
    টিকেট মেলে না সহজে,
    মিললে তবে একাদশে বৃহস্পতি।

    সেই ট্রেনের পেছনে ছুটলাম
    বছরের পর বছর,
    কখনও মনে হলো
    এই বুঝি ধরতে পেলাম,
    ঘোর কাটতেই বুঝলাম
    সবই ছিল মোহ।

    ট্রেন ধরার দৌড়ে আমি নইকো একা,
    আমার সাথে দৌড়াচ্ছে
    আমার সকল সাথীরা।
    হঠাৎ পা পিছলে
    ছিটকে পড়লাম মাটিতে,
    এলো না কেউ হাত বাড়িয়ে
    রইলাম পড়ে প্ল্যাটফর্মে।

    দেখলাম এক বিশাল জনসমুদ্র,
    একমুখী তাদের ধাবন
    অপরকে ডিঙিয়ে, মাড়িয়ে, অপসারিত করে
    অসাধ্যকে করবে তারা সাধন।

    এর মাঝে দেখা মেলে
    এক বাউল ফকিরের দল,
    কোন দৌড়ে নেই কোন অভিলাষ,
    আপন খেয়ালে মত্ত তাদের মন।
    মায়ার সকল বাঁধন ছেড়ে,
    আত্মিকতায় শেষ অন্বেষণ।

    ~ যারিন
    ২৭ শে জুলাই, ২০২৫।

    মায়ার ট্রেন এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবৃত্তি

    07/20/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আবৃত্তি করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “মুক্তি” কবিতা, পলাতকা কাব্যগ্রন্থ থেকে। এক গৃহিণীর বাঁধাধরা সংসার থেকে চিরমুক্তির অভিব্যক্তি 🌿

    আবৃত্তি এ কোন মন্তব্য নেই
  • দিনশেষে

    06/23/2025
    গদ্য ও পদ্য

    একখানি কাগজ হাতে,
    এক রক্তঝরা কলমে
    লিখতে বসে দিনলিপি
    কোথা থেকে শুরু –
    কোথায় শেষ
    জানা নেই বিন্যাস রীতি।

    নিস্তব্ধ সান্ধ্যকালে
    উত্তর লিখি
    নিজের প্রশ্নের,
    নির্বোধ, কেন হাঁটলে একই পথে?
    কেন ঝড়ালে লবণ ক্ষতস্থানে?
    কষ্ট এখন বেড়ে দ্বিগুণ
    নিষ্কাশনের পথ নেই,
    হৃদয়ে ছেঁয়েছে আগুন।

    দাবানল গ্রাসে সকল আনন্দ
    পেছনে ফিরে তাকালেও ধূ ধূ প্রান্তর,
    দিনশেষে কেউ কথা রাখেনি,
    কেউ পাশে থাকেনি,
    কেউ বিশ্বাসী হয়ে ওঠেনি।

    ২৩ শে জুন, ২০২৫।
    ~ যারিন

    দিনশেষে এ কোন মন্তব্য নেই
  • আবৃত্তি

    06/18/2025
    গদ্য ও পদ্য

    আমার প্রথম কবিতা আবৃত্তি, কোন ভুল হলে মার্জনা করবেন।
    পাঠ করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতাটি💕

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হঠাৎ দেখা” কবিতা আবৃত্তি।
    আবৃত্তি এ কোন মন্তব্য নেই
  • মাটির পুতুল

    05/25/2025
    গদ্য ও পদ্য

    ঝিনুকের মালা বুনবে,
    লাল শাড়ি গায়ে
    মাটির পুতুলের বিয়ে হবে,
    ভোজনের আসর তাই।

    পুতুল খেলার পাঠ চুকিয়ে
    কিশোরীর আজ তারুণ্যে পদার্পণ,
    বিবাহের দিন ধার্য্য হয়েছে,
    বাড়িতে আবারও ভোজনের আয়োজন।

    ট্রাকে করে ভারী আসবাব,
    স্বর্ণ-হীরক-অলংকার,
    যৌতুক নয় এসবই
    এগুলো নাকি বাবার দেওয়া “উপহার”।
    উপহারের তালিকা যখন ঊর্ধ্বগতি,
    বধূর মন ততই নিম্নগতি
    কি জানি কিসের সে এতো বোঝা
    যাকে কাঁধ থেকে সরানোই একমাত্র সাধনা।

    অবশেষ ঘুঁচলো সব তথাকথিত সামাজিকতা,
    বর ও বধূর হলো নতুন সংসারের সূচনা।
    নতুন ঘর, নতুন মাটি,
    তাতে পুড়েই সোনা হবে খাঁটি।
    খাঁটি হওয়ার অধ্যাবসায়ে
    সোনার ঝলক স্মিত,
    সূর্যের রশ্মি ঢোকে না তাতে
    আঁধারের গ্রাসে সকল কিরণ মৃত।

    তাই আজ শুধাই –
    মৃত্যু কি শুধু শরীরের?
    মনের কি মৃত্যু নেই?
    বেঁচে থেকেও যে প্রাণহীন
    সেই জীবন্ত লাশের সমাধি কই?

    যতবার এক এক করে সূর্যের মৃত্যু হয়
    ততবার কি হয় একটি করে সূর্যগ্রহণ?
    হয়কি জানাযা, দোয়া মাহফিল,
    পুরোনো সব স্মৃতির দাফন?

    সং সেজে সংসার-সংসার খেলতে গিয়ে,
    রংহীন, প্রাণহীন আজ তার বদনখানি,
    কি জানি হয়তো খুব শীঘ্রই
    মাটির পুতুল হবে মাটি।

    ~ যারিন
    ২৫শে মে, ২০২৫

    মাটির পুতুল এ কোন মন্তব্য নেই
  • আমিত্ব

    04/06/2025
    গদ্য ও পদ্য

    সাম্প্রতিককালে লোকমুখে “আমিত্বের” গুঞ্জন খুব শোনা যায়। “আত্মপ্রেম”, “আত্মসম্মানবোধ”, “আত্মবিশ্বাস”, “আত্মমর্যাদা”, ইত্যাদি মানসিকস্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে উপকারী। এর বিপরীত ঘটে যখন মানুষ তার আমিত্বকে প্রকট রেখে বাকি অস্তিত্বকে প্রচ্ছন্ন/ তার তরে ভাবে। এ ব্যাপারে খানিক মনোনিবেশ করলেই বোঝা যায় আমাদের কথা, চলা, পড়া, প্রতিক্রিয়া সবকিছুরই উৎপত্তি অন্যের থেকে শিক্ষালাভ করে। মাতৃভাষাও মায়ের পেটে শিখে আসিনি, বরং পৃথিবীতে আগমণের পর তা শেখানো বুলি। আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভদ্রতা, শালীনতাও আমাদের শিক্ষার প্রতিফলন। একে সংক্ষেপে বললে,

    তুমি + তুমি + তুমি +…. + তুমি^∞ = আমি
    এখানে “তুমি” বলতে জগতে যা “আমি” নয় তা বোঝানো হয়েছে।

    বিশ্ব এ পাঠশালায় আমাদের মাঝে শুধু পার্থক্য হলো কে কত ভালো শিক্ষার্থী। কোন শিক্ষার্থী বিশ্লেষনসহ শিখে আর কোন শিক্ষার্থী না বুঝেই মুখস্ত করে। মুখস্তবিদ্যায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কিংবা বিবেক-বুদ্ধিরও সম্প্রসারণ সম্ভব নয়, জ্ঞানের ভাণ্ডারও সীমিত থাকে। সীমিতজ্ঞানে অহংকার ও মাৎসর্যের সম্প্রসারণ ঘটে, যার ফলস্বরূপ আমিত্বের গরিমা ফুলেফেঁপে ওঠে।

    ~ যারিন
    ৫ই এপ্রিল, ২০২৫।

    আমিত্ব এ কোন মন্তব্য নেই
  •                             ক্রোধাগ্নি

    04/01/2025
    গদ্য ও পদ্য

    দূর্নিবার ঘূর্ণি
    ও অতিকায় অগ্নি,
    সন্নিযোগে রূপ তার মহা প্রলয়ংকারী
    প্রবলবেগে ধেয়ে চলে বহ্নি তরঙ্গিনী,
    এক অনিশ্চিত ঠিকানায় –
    এক বিনাশকারী তাণ্ডবলীলায় –
    একরাশ ক্রোধের সমারোহ সমীরণে।

    আজ জীব, উদ্ভিদ, পক্ষীকূল নির্বিশেষে
    অগ্নিস্ফুলিঙ্গে দগ্ধ ভস্মে,
    অদূরে মেঘরাজও নিশ্চুপ ও নিস্তব্ধে
    বহ্নিনৃত্য দেখে শূন্য দৃষ্টিতে।

    ধরার এই ক্রোধের উৎপত্তি কি একদিনে?
    নাকি শত শত বছরের অবহেলার পরিণামে?
    দূষণের উপর দূষণের স্তূপ ধরার বুকে,
    তারই আর্তনাদ আজ হিংস্র অগ্নিরূপে।

    ক্রোধ শান্ত হলেও চারিদিকে ছেয়ে গেছে অশান্তি,
    ধরণীকে অশান্ত করে কে পেয়েছে কবে শান্তি?

    ~ যারিন সুবাহ্
    ১লা এপ্রিল, ২০২৫।

                                ক্রোধাগ্নি এ কোন মন্তব্য নেই
  • “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া

    02/20/2025
    গদ্য ও পদ্য

    যেমন করে একটি দেশের বিভিন্ন নীতিমালা, আইনকানুন, ও বিধিনিষেধ থাকে, তেমনি একজন মানুষের মাঝে আছে বহু সীমারেখা; তা হোক সহনশক্তির বা শৃংখলার, এর লঙ্ঘন মানুষের কাছে কাম্য নয়। এভাবে দেখলে প্রতিটি মানুষ আসলে একটি “দেশের” রূপক, নিজের মাঝে বহু ঐতিহ্য ও শৃংখলা বহন করে চলেছে। নিজের জনগণের (পরিবারের) স্বার্থে বহু ত্যাগও স্বীকার করে, বহু স্বপ্নের অকালে মৃত্যু ঘটে। অপর দেশের সাথে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে বিয়ে বা বন্ধুত্বের মাধ্যমে। কিন্তু তার মাঝে অশান্তি সৃষ্টি হলে দেশে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়; নিজের সীমানা বাঁচাতে বহু প্রাণের মাশুল দেওয়া লাগে।

    এতো দ্বন্দ্বের মাঝে বিধিনিষেধহীন, রীতিনীতিশূন্য স্থান হলো “অনিকেত প্রান্তর”, যার আক্ষরিক অর্থ হলো – দু’টি দেশের মাঝে মালিকানাহীন, জনমানবশূন্য স্থান। এই প্রান্তর মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিছু নয়, মানবচিন্তা ও কল্পনাশক্তিই মানুষের অনিকেত প্রান্তর। হয়তো তার প্রয়োগ বাস্তব জীবনে দুরূহ, কিন্তু তাই বলে মানব মনস্তত্ত্বে যে অনিকেত প্রান্তর রয়েছে, তার উপস্থিতি আড়াল করা উচিৎ নয়। এতে সীমার মাঝেও যে অসীম রয়েছে তাকে হারাতে হয়।

    ~ যারিন

    “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া এ কোন মন্তব্য নেই
আগের পৃষ্ঠা
1 2 3 4
পরবর্তী পৃষ্ঠা

Blog at WordPress.com.

মেঘের গান

– যারিন সুবাহ্

  • About
  • Contact
  • গ্রাহক হন Subscribed
    • মেঘের গান
    • Already have a WordPress.com account? Log in now.
    • মেঘের গান
    • গ্রাহক হন Subscribed
    • নিবন্ধন
    • লগ ইন
    • Report this content
    • View site in Reader
    • সদস্যতা তৈরি করুন
    • Collapse this bar