এড়িয়ে লেখায় যান
  • মাটির পুতুল

    05/25/2025
    গদ্য ও পদ্য

    ঝিনুকের মালা বুনবে,
    লাল শাড়ি গায়ে
    মাটির পুতুলের বিয়ে হবে,
    ভোজনের আসর তাই।

    পুতুল খেলার পাঠ চুকিয়ে
    কিশোরীর আজ তারুণ্যে পদার্পণ,
    বিবাহের দিন ধার্য্য হয়েছে,
    বাড়িতে আবারও ভোজনের আয়োজন।

    ট্রাকে করে ভারী আসবাব,
    স্বর্ণ-হীরক-অলংকার,
    যৌতুক নয় এসবই
    এগুলো নাকি বাবার দেওয়া “উপহার”।
    উপহারের তালিকা যখন ঊর্ধ্বগতি,
    বধূর মন ততই নিম্নগতি
    কি জানি কিসের সে এতো বোঝা
    যাকে কাঁধ থেকে সরানোই একমাত্র সাধনা।

    অবশেষ ঘুঁচলো সব তথাকথিত সামাজিকতা,
    বর ও বধূর হলো নতুন সংসারের সূচনা।
    নতুন ঘর, নতুন মাটি,
    তাতে পুড়েই সোনা হবে খাঁটি।
    খাঁটি হওয়ার অধ্যাবসায়ে
    সোনার ঝলক স্মিত,
    সূর্যের রশ্মি ঢোকে না তাতে
    আঁধারের গ্রাসে সকল কিরণ মৃত।

    তাই আজ শুধাই –
    মৃত্যু কি শুধু শরীরের?
    মনের কি মৃত্যু নেই?
    বেঁচে থেকেও যে প্রাণহীন
    সেই জীবন্ত লাশের সমাধি কই?

    যতবার এক এক করে সূর্যের মৃত্যু হয়
    ততবার কি হয় একটি করে সূর্যগ্রহণ?
    হয়কি জানাযা, দোয়া মাহফিল,
    পুরোনো সব স্মৃতির দাফন?

    সং সেজে সংসার-সংসার খেলতে গিয়ে,
    রংহীন, প্রাণহীন আজ তার বদনখানি,
    কি জানি হয়তো খুব শীঘ্রই
    মাটির পুতুল হবে মাটি।

    ~ যারিন
    ২৫শে মে, ২০২৫

    মাটির পুতুল এ কোন মন্তব্য নেই
  • আমিত্ব

    04/06/2025
    গদ্য ও পদ্য

    সাম্প্রতিককালে লোকমুখে “আমিত্বের” গুঞ্জন খুব শোনা যায়। “আত্মপ্রেম”, “আত্মসম্মানবোধ”, “আত্মবিশ্বাস”, “আত্মমর্যাদা”, ইত্যাদি মানসিকস্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে উপকারী। এর বিপরীত ঘটে যখন মানুষ তার আমিত্বকে প্রকট রেখে বাকি অস্তিত্বকে প্রচ্ছন্ন/ তার তরে ভাবে। এ ব্যাপারে খানিক মনোনিবেশ করলেই বোঝা যায় আমাদের কথা, চলা, পড়া, প্রতিক্রিয়া সবকিছুরই উৎপত্তি অন্যের থেকে শিক্ষালাভ করে। মাতৃভাষাও মায়ের পেটে শিখে আসিনি, বরং পৃথিবীতে আগমণের পর তা শেখানো বুলি। আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভদ্রতা, শালীনতাও আমাদের শিক্ষার প্রতিফলন। একে সংক্ষেপে বললে,

    তুমি + তুমি + তুমি +…. + তুমি^∞ = আমি
    এখানে “তুমি” বলতে জগতে যা “আমি” নয় তা বোঝানো হয়েছে।

    বিশ্ব এ পাঠশালায় আমাদের মাঝে শুধু পার্থক্য হলো কে কত ভালো শিক্ষার্থী। কোন শিক্ষার্থী বিশ্লেষনসহ শিখে আর কোন শিক্ষার্থী না বুঝেই মুখস্ত করে। মুখস্তবিদ্যায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কিংবা বিবেক-বুদ্ধিরও সম্প্রসারণ সম্ভব নয়, জ্ঞানের ভাণ্ডারও সীমিত থাকে। সীমিতজ্ঞানে অহংকার ও মাৎসর্যের সম্প্রসারণ ঘটে, যার ফলস্বরূপ আমিত্বের গরিমা ফুলেফেঁপে ওঠে।

    ~ যারিন
    ৫ই এপ্রিল, ২০২৫।

    আমিত্ব এ কোন মন্তব্য নেই
  •                             ক্রোধাগ্নি

    04/01/2025
    গদ্য ও পদ্য

    দূর্নিবার ঘূর্ণি
    ও অতিকায় অগ্নি,
    সন্নিযোগে রূপ তার মহা প্রলয়ংকারী
    প্রবলবেগে ধেয়ে চলে বহ্নি তরঙ্গিনী,
    এক অনিশ্চিত ঠিকানায় –
    এক বিনাশকারী তাণ্ডবলীলায় –
    একরাশ ক্রোধের সমারোহ সমীরণে।

    আজ জীব, উদ্ভিদ, পক্ষীকূল নির্বিশেষে
    অগ্নিস্ফুলিঙ্গে দগ্ধ ভস্মে,
    অদূরে মেঘরাজও নিশ্চুপ ও নিস্তব্ধে
    বহ্নিনৃত্য দেখে শূন্য দৃষ্টিতে।

    ধরার এই ক্রোধের উৎপত্তি কি একদিনে?
    নাকি শত শত বছরের অবহেলার পরিণামে?
    দূষণের উপর দূষণের স্তূপ ধরার বুকে,
    তারই আর্তনাদ আজ হিংস্র অগ্নিরূপে।

    ক্রোধ শান্ত হলেও চারিদিকে ছেয়ে গেছে অশান্তি,
    ধরণীকে অশান্ত করে কে পেয়েছে কবে শান্তি?

    ~ যারিন সুবাহ্
    ১লা এপ্রিল, ২০২৫।

                                ক্রোধাগ্নি এ কোন মন্তব্য নেই
  • “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া

    02/20/2025
    গদ্য ও পদ্য

    যেমন করে একটি দেশের বিভিন্ন নীতিমালা, আইনকানুন, ও বিধিনিষেধ থাকে, তেমনি একজন মানুষের মাঝে আছে বহু সীমারেখা; তা হোক সহনশক্তির বা শৃংখলার, এর লঙ্ঘন মানুষের কাছে কাম্য নয়। এভাবে দেখলে প্রতিটি মানুষ আসলে একটি “দেশের” রূপক, নিজের মাঝে বহু ঐতিহ্য ও শৃংখলা বহন করে চলেছে। নিজের জনগণের (পরিবারের) স্বার্থে বহু ত্যাগও স্বীকার করে, বহু স্বপ্নের অকালে মৃত্যু ঘটে। অপর দেশের সাথে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে বিয়ে বা বন্ধুত্বের মাধ্যমে। কিন্তু তার মাঝে অশান্তি সৃষ্টি হলে দেশে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়; নিজের সীমানা বাঁচাতে বহু প্রাণের মাশুল দেওয়া লাগে।

    এতো দ্বন্দ্বের মাঝে বিধিনিষেধহীন, রীতিনীতিশূন্য স্থান হলো “অনিকেত প্রান্তর”, যার আক্ষরিক অর্থ হলো – দু’টি দেশের মাঝে মালিকানাহীন, জনমানবশূন্য স্থান। এই প্রান্তর মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিছু নয়, মানবচিন্তা ও কল্পনাশক্তিই মানুষের অনিকেত প্রান্তর। হয়তো তার প্রয়োগ বাস্তব জীবনে দুরূহ, কিন্তু তাই বলে মানব মনস্তত্ত্বে যে অনিকেত প্রান্তর রয়েছে, তার উপস্থিতি আড়াল করা উচিৎ নয়। এতে সীমার মাঝেও যে অসীম রয়েছে তাকে হারাতে হয়।

    ~ যারিন

    “অনিকেত প্রান্তর” গানের কথার প্রতিক্রিয়া এ কোন মন্তব্য নেই
  • নিজের সাথে বোঝাপড়া

    12/31/2024
    গদ্য ও পদ্য

    শোনা কথা,
    গল্পকথা,
    ঝুড়িঝুড়ি মিথ্যাকথা,
    সত্য সেথায় রূপকথা
    অলীক তার বিরাজতা।

    অন্তরে গভীর দুঃখরাশি
    তবে মুখে সদাই হাসি,
    হাসিমুখে ঢাকে অবসাদ
    দীনহীন, গরীবের উজ্জ্বল প্রাসাদ।

    সত্য ঢাকার এক অদ্ভুত খেলা
    তাতে ফুরায় সারাবেলা,
    খেলতে খেলতে আজ শুধি –
    সত্য কি তা মনে আছে বুঝি?
    নাকি মিথ্যের স্তুপে পড়লো চাপা?
    নকল হাসি কেড়ে নিলো মলিন চেহারা।
    হয় কি আজও ঘরে ফেরা?
    নিজের সাথে বোঝাপড়া?

    ~ যারিন
    – ৩১শে ডিসেম্বর,২০২৪।

    নিজের সাথে বোঝাপড়া এ কোন মন্তব্য নেই
  • My Paintings

    09/09/2024
    আঁকাআঁকি

    Click on each image to expand the view

    “From my window to your window”🪟
    ~ Tiny windows hand-painted on a leather bag🎨

    “জলগর্ভে মাছের আনন্দ উৎসব”
    – নারী গর্ভধারিণীর ও তার চুল ঢেউয়ের প্রতীক 🩵

    ~ Watercolor painting 🎨🖌️
    July 5th, 2025.

    “As Above, So Below.
    As Within, So Without.
    As the Universe, So the Soul.”

    ~ Watercolor painting 🎨🖌️
    March 16, 2025.

    Humans Living Inside a Human
    ~ Water color painting 🎨🖌️
    May 6th, 2025.

    Trapped Deer Cubs and a Helpless Mother
    ~ Watercolor painting
    06/13/2025.

    শ্যামল মিত্রের গান ও মায়াবী হরিণী ❤️
    ~ Watercolor painting
    July 1st, 2025.
    Souls dancing in the candlelight🕯️
    Watercolor painting
    ~02/08/2025
    The Tulip Garden 🌷
    Watercolor painting
    ~12/24/2024
    হরিণ
    Watercolor painting
    ~ 12/21/2024
    আত্মিকতা
    Watercolor painting
    ~ 09/14/2024
    অভয়া
    Pastel Painting
    ~ 01/02/2017
    একা মৎস
    Watercolor painting
    ~ 8/17/2024
    স্বপ্নের মৃত্যু
    Watercolor painting
    ~ 8/30/2024
    তটিনী
    Watercolor painting
    n.d.
    চেরি ফুল
    Watercolor painting
    ~ 12/09/2020
    আল্পনা
    Watercolor painting
    ~ 04/03/2020
    পুষ্পিতা
    Foam painting
    ~ 12/13/2020
    পক্ষীরাজ
    Watercolor painting
    ~08/06/2018
    গ্রাম ও কৃষ্ণচূড়া
    Wood Painting
    ~ 03/06/2020
    লা তাহযান
    Calligraphy
    ~ 03/15/2017

    My Paintings এ কোন মন্তব্য নেই
  • ভয়

    08/20/2024
    গদ্য ও পদ্য

    ভয় আর ভালোবাসা কি চলে সমান্তরালে?
    নাকি ভয় আর শ্রদ্ধা?
    যার ভয়ে নিথর দেহ ও স্বত্তা,
    চিত্তে কেবল তার ক্ষমতার আনুগত্যের বিরাজতা।

    মাথানত সম্মোহনে কি জন্মে প্রেমের গান?
    আজ্ঞাবহ প্রাণে মৃত স্বতঃস্ফূর্ত টান।


    ~ যারিন

    ভয় এ কোন মন্তব্য নেই
  • ফুলের গান

    06/02/2024
    গদ্য ও পদ্য
    ফুলের গান

    একগোছা গোলাপ ও রজনীগন্ধা,
    একরাশ মিষ্টি ঘ্রাণ,
    এক ফালি রোদ ও
    একদল হাওয়ার তালে
    বেজে ওঠে পাঁপড়ির গান।

    পাঁপড়ির মাঝে সুনিপুণ কলা,
    কত সূক্ষ্ম সব শিরোরেখা ,
    অধরা হাসিতে অস্থায়ী সত্তা,
    তাও চাহনীতে কত আনন্দ লেখা।

    শিকড়হীন পুষ্পের সীমিত সময়কাল,
    শুকনো ও রিক্ত অবয়বে তার স্থান
    বইয়ের পাতায় চিরকাল।

    ~ যারিন

    ফুলের গান এ কোন মন্তব্য নেই
  • চড়ুই পাখির সংসার

    05/21/2024
    গদ্য ও পদ্য
    চড়ুই পাখির সংসার

    ভরদুপুরে বসেছে চড়ুই পাখির সভা,
    কতটা দানা ও কতটা পানির যোগান- তার আলোচনা।
    গ্রীষ্মের দাবদাহ বা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ো আবহাওয়া,
    নিকেতনের বারান্দায় পক্ষীকূলের অভয় আস্তানা।

    জানালা দিয়ে দেখা যায় পরিপাটি সুসজ্জিত ঘর,
    তথায় কোন মানবের উদ্যোগে বসে –
    দৈনন্দিন চড়ুইয়ের আসর।

    দু’মুঠো চাল ও দু’বাটি জল,
    তাতে সম্পন্ন কুড়িখানা চড়ুইয়ের ভোজন।
    তৃপ্তিভরা প্রাণে পরম প্রশান্তি
    তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণের স্থায়ী চাপমুক্তি।

    মনের নিভৃতে চড়ুই ভাবে
    অবশেষে জীবনে পেলাম বুঝি সুখের আবাসস্থল,
    ক্ষুদ্র প্রাণ বুঝবে কিভাবে –
    এ পৃথিবীতে সুখ যে অলীক, নশ্বর, ও অনুপল।

    এমনি করে একদিন সমাপ্ত ভোজনের আয়োজন,
    একসময়ের সাজানো ঘর আজ শূন্য ও নির্জন।
    জনমানবহীন ঘরের দিকে চড়ুই অপলক তাকিয়ে রয়,
    কত আশায় বাঁধা স্বপ্নের বুঝি এই পরিণয়?

    বিচ্ছেদই যদি হয় শেষ বাসনা,
    কেনো এতো আয়েশী জীবনের সূচনা?
    কেনো এতো স্নেহ-ভালবাসার অনুভূতি
    কথা রাখার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?

    ~ যারিন

    চড়ুই পাখির সংসার এ কোন মন্তব্য নেই
  • বৈষম্য

    04/28/2024
    গদ্য ও পদ্য

    গ্রীষ্মের মধ্যাহ্নে নির্জন ঝিলের পাড়,
    সেখানে আজ এক ঝাঁক মাছরাঙার সমাহার।
    শান্তপাখির সূক্ষ্ম দৃষ্টি জলে নিবদ্ধ,
    জলতরঙ্গে সন্ধানে মাছের অস্তিত্ব।

    পরক্ষণে জলের পৃষ্ঠে উঁকি দেয় মাছ
    ঝাপসা চোখে বায়ুর সন্নিধান।
    তার দৃষ্টিতে আটকায় বাহারী পক্ষীকূল,
    ওদিকে মাছরাঙার মনোনিবেশ লক্ষ্যে ব্যাকুল।

    পাখির অবধানে শিকারের ফাঁদ,
    মাছের মনে তখন বাঁচার আর্তনাদ।
    প্রকৃতির কি করুণ বিধান –
    কারো আহার,
    তো কারো প্রাণের সংহার।

    যুগে যুগে এভাবেই বয়ে চলে প্রকৃতির ধারা,
    বাস্তুসংস্থানের প্রকট নিয়মমালা।
    উচ্চস্তরের প্রাণীর খাদ্য নিম্নস্তরের প্রাণী,
    বড় মাছের অন্নজালে ছোট মাছের সারি।

    আর নিম্নস্তরের প্রাণীর খাদ্য বৃক্ষ, লতা-পাতা,
    তেমনি করে প্রাচুর্য্যতার খাদ্য দারিদ্রতা।

    দারিদ্রতাকেই দাবিয়ে চলছে ক্ষমতার পর্বতারোহণ,
    চিরকাল তাই দুর্বলের উপর সবলের অনুশাসন।
    কার বিজয়, কার পরাজয়,
    কে করবে তা নির্ণয়?
    হোক ধনী বা গরীব, মাছ বা পাখি –
    পরিশেষে সকল জীবের ভাগ্যে একই পরিণতি
    মহাকালের গহ্বরে প্রত্যেকের চিরসমাপ্তি।

    ~ যারিন

    বৈষম্য এ কোন মন্তব্য নেই
আগের পৃষ্ঠা
1 2 3 4
পরবর্তী পৃষ্ঠা

Blog at WordPress.com.

মেঘের গান

– যারিন সুবাহ্

  • About
  • Contact
Loading Comments...
  • গ্রাহক হন Subscribed
    মেঘের গান

    Have a WordPress.com account? Log in now.

  • মেঘের গান
    View site in Reader
    সদস্যতা তৈরি করুননিবন্ধনলগ ইন
    Report this content
    Collapse this bar