সাম্প্রতিককালে লোকমুখে “আমিত্বের” গুঞ্জন খুব শোনা যায়। “আত্মপ্রেম”, “আত্মসম্মানবোধ”, “আত্মবিশ্বাস”, “আত্মমর্যাদা”, ইত্যাদি মানসিকস্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে উপকারী। এর বিপরীত ঘটে যখন মানুষ তার আমিত্বকে প্রকট রেখে বাকি অস্তিত্বকে প্রচ্ছন্ন/ তার তরে ভাবে। এ ব্যাপারে খানিক মনোনিবেশ করলেই বোঝা যায় আমাদের কথা, চলা, পড়া, প্রতিক্রিয়া সবকিছুরই উৎপত্তি অন্যের থেকে শিক্ষালাভ করে। মাতৃভাষাও মায়ের পেটে শিখে আসিনি, বরং পৃথিবীতে আগমণের পর তা শেখানো বুলি। আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ভদ্রতা, শালীনতাও আমাদের শিক্ষার প্রতিফলন। একে সংক্ষেপে বললে,
তুমি + তুমি + তুমি +…. + তুমি^∞ = আমি
এখানে “তুমি” বলতে জগতে যা “আমি” নয় তা বোঝানো হয়েছে।
বিশ্ব এ পাঠশালায় আমাদের মাঝে শুধু পার্থক্য হলো কে কত ভালো শিক্ষার্থী। কোন শিক্ষার্থী বিশ্লেষনসহ শিখে আর কোন শিক্ষার্থী না বুঝেই মুখস্ত করে। মুখস্তবিদ্যায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কিংবা বিবেক-বুদ্ধিরও সম্প্রসারণ সম্ভব নয়, জ্ঞানের ভাণ্ডারও সীমিত থাকে। সীমিতজ্ঞানে অহংকার ও মাৎসর্যের সম্প্রসারণ ঘটে, যার ফলস্বরূপ আমিত্বের গরিমা ফুলেফেঁপে ওঠে।
~ যারিন
৫ই এপ্রিল, ২০২৫।


