এড়িয়ে লেখায় যান
  • চড়ুই পাখির সংসার

    05/21/2024
    গদ্য ও পদ্য
    চড়ুই পাখির সংসার

    ভরদুপুরে বসেছে চড়ুই পাখির সভা,
    কতটা দানা ও কতটা পানির যোগান- তার আলোচনা।
    গ্রীষ্মের দাবদাহ বা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ো আবহাওয়া,
    নিকেতনের বারান্দায় পক্ষীকূলের অভয় আস্তানা।

    জানালা দিয়ে দেখা যায় পরিপাটি সুসজ্জিত ঘর,
    তথায় কোন মানবের উদ্যোগে বসে –
    দৈনন্দিন চড়ুইয়ের আসর।

    দু’মুঠো চাল ও দু’বাটি জল,
    তাতে সম্পন্ন কুড়িখানা চড়ুইয়ের ভোজন।
    তৃপ্তিভরা প্রাণে পরম প্রশান্তি
    তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণের স্থায়ী চাপমুক্তি।

    মনের নিভৃতে চড়ুই ভাবে
    অবশেষে জীবনে পেলাম বুঝি সুখের আবাসস্থল,
    ক্ষুদ্র প্রাণ বুঝবে কিভাবে –
    এ পৃথিবীতে সুখ যে অলীক, নশ্বর, ও অনুপল।

    এমনি করে একদিন সমাপ্ত ভোজনের আয়োজন,
    একসময়ের সাজানো ঘর আজ শূন্য ও নির্জন।
    জনমানবহীন ঘরের দিকে চড়ুই অপলক তাকিয়ে রয়,
    কত আশায় বাঁধা স্বপ্নের বুঝি এই পরিণয়?

    বিচ্ছেদই যদি হয় শেষ বাসনা,
    কেনো এতো আয়েশী জীবনের সূচনা?
    কেনো এতো স্নেহ-ভালবাসার অনুভূতি
    কথা রাখার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?

    ~ যারিন

    চড়ুই পাখির সংসার এ কোন মন্তব্য নেই
  • বৈষম্য

    04/28/2024
    গদ্য ও পদ্য

    গ্রীষ্মের মধ্যাহ্নে নির্জন ঝিলের পাড়,
    সেখানে আজ এক ঝাঁক মাছরাঙার সমাহার।
    শান্তপাখির সূক্ষ্ম দৃষ্টি জলে নিবদ্ধ,
    জলতরঙ্গে সন্ধানে মাছের অস্তিত্ব।

    পরক্ষণে জলের পৃষ্ঠে উঁকি দেয় মাছ
    ঝাপসা চোখে বায়ুর সন্নিধান।
    তার দৃষ্টিতে আটকায় বাহারী পক্ষীকূল,
    ওদিকে মাছরাঙার মনোনিবেশ লক্ষ্যে ব্যাকুল।

    পাখির অবধানে শিকারের ফাঁদ,
    মাছের মনে তখন বাঁচার আর্তনাদ।
    প্রকৃতির কি করুণ বিধান –
    কারো আহার,
    তো কারো প্রাণের সংহার।

    যুগে যুগে এভাবেই বয়ে চলে প্রকৃতির ধারা,
    বাস্তুসংস্থানের প্রকট নিয়মমালা।
    উচ্চস্তরের প্রাণীর খাদ্য নিম্নস্তরের প্রাণী,
    বড় মাছের অন্নজালে ছোট মাছের সারি।

    আর নিম্নস্তরের প্রাণীর খাদ্য বৃক্ষ, লতা-পাতা,
    তেমনি করে প্রাচুর্য্যতার খাদ্য দারিদ্রতা।

    দারিদ্রতাকেই দাবিয়ে চলছে ক্ষমতার পর্বতারোহণ,
    চিরকাল তাই দুর্বলের উপর সবলের অনুশাসন।
    কার বিজয়, কার পরাজয়,
    কে করবে তা নির্ণয়?
    হোক ধনী বা গরীব, মাছ বা পাখি –
    পরিশেষে সকল জীবের ভাগ্যে একই পরিণতি
    মহাকালের গহ্বরে প্রত্যেকের চিরসমাপ্তি।

    ~ যারিন

    বৈষম্য এ কোন মন্তব্য নেই
  • নিরন্তর স্রোতস্বিনী

    02/02/2024
    গদ্য ও পদ্য
    নিরন্তর স্রোতস্বিনী

    পৌষের রাতে, নির্জন আঁধারে
    একা নদীর পাড়ে,
    মনের মাঝে আজ স্মৃতিরা কড়া নাড়ে।
    ঝিরিঝিরি বাতাস
    আর কুয়াশার আভাস,
    আড়ালে হাজারো তারার মেলা,
    তারার হাটে আজ বসেছে নীহারিকার খেলা।

    কুয়াশায় ঘেরা নক্ষত্রের চাঁদরে
    নদীর কালো জলের প্রবাহ,
    দূষিত জল, দূষিত মন,
    দূষিত হৃদয়ে আজ দূষিত স্মৃতিচারণ।

    কলুষিত স্মৃতির নিদারুণ মর্মপীড়া,
    কত আশাভঙ্গ, কত কপটতায় ঘেরা,
    তারপরও মন নিরাশায় আশা খোঁজে,
    নদীর বুকে তারকারশ্মির প্রতিবিম্ব সন্ধানে।

    হোক দূষিত, বা পরিচ্ছন্ন,
    স্রোতস্বিনী তার আপন ধর্মে মগ্ন।
    নিভৃতে সকল বাঁধা পেরিয়ে
    বয়ে চলে অবিচ্ছিন্নভাবে।

    ~ যারিন

    নিরন্তর স্রোতস্বিনী এ কোন মন্তব্য নেই
  • আলোর অন্বেষণ

    12/23/2023
    গদ্য ও পদ্য
    আলোর অন্বেষণ

    কপটতা ও স্বার্থপরতার পৃথিবীতে
    সাজানো সব কৃত্রিম আলোকরাশি,
    লোভ, হিংসা, ও বিশ্বাসঘাতকতা
    সর্বস্থলে মিথ্যের আতশবাজি।

    ঝলমলে সব মেকী আলোয়
    অভ্যন্তর আজ আলোকহীন,
    সত্যের প্রদীপ অস্তমিত প্রায়
    মনুষ্যত্বের দীপ্তি ক্ষীণ।

    কে কাকে ঠকালো
    সেই বিজয়ে জ্বলে
    আত্মঅহংকারের বাতি –
    সত্যকে জীবন্ত কবর দিয়ে
    মিথ্যের আলোয় হয় আত্মঘাতী।

    ভুলে যায় –
    অন্তিমে নিকষকালো অন্ধকার,
    এখানে নেই কোন কপটতার
    নকল কিরণমালা,
    সাড়ে তিন হাত মাটির গহ্বর
    যেথায় আসন্ন অতীব যন্ত্রণা।

    সৎকর্ম, স্বত্বত্যাগ, ও মানবতা,
    আঁধারের বুকে আশার বার্তা,
    সে আলো নয় কৃত্রিম, নয় জমকালো,
    ঘন তমসায় নীরবে প্রজ্জ্বলিত –
    এক সলতে আলো।

    ~ যারিন

    আলোর অন্বেষণ এ কোন মন্তব্য নেই
  • গন্তব্য

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    সমুদ্রের মাঝে নৌকা নিয়ে
    বৈঠা বেয়ে চলি,
    আমিই যাত্রী, আমিই মাঝি,
    অথৈ সমুদ্রে দিলাম পাড়ি।

    একটু হাত ফসকালেই দারুণ বিপদ
    হতে পারে নৌকাডুবি,
    চারিদিকে সব মাংসখেকো ভয়ংকর প্রাণী,
    তারই মাঝে আমি একা বৈঠা টানি।

    সুদূরে দেখা যায় সবুজের রেখা
    আলোর হাতছানি,
    বৈঠা বেয়ে পৌঁছাতে হবে আমায়
    প্রতিটি মুহূর্ত যে খুব দামী।

    তারই মাঝে বহু শঙ্কা, বহু বাঁধা,
    নৌকাডুবির বিশাল ঝুঁকি,
    আমি একা বৈঠা হাতে,
    সুদূরপুর আর কত দেরী?

    ~ যারিন

    গন্তব্য এ কোন মন্তব্য নেই
  • ঝড়াপাতা

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য
    ঝড়াপাতা

    লালপাতা, হলুদ পাতা, কমলাপাতা,
    বাহারীরঙের পাতার বাহার,
    ঝড়ে যায় –
    এক শীতল কণকণে বায়ুপ্রবাহ
    উড়িয়ে নিয়ে যায় বৃক্ষ থেকে বাহারীরঙের পাতাগুলোকে
    বাহারীপাতা তখন প্রাণহীন ঝড়াপাতা ~

    রাস্তাঘাট, মাঠপার্ক, যেদিকে চোখ যায়
    চারিদিকে ঝড়াপাতার শ্মশান
    তার উপর প্রতিনিয়ত মাড়িয়ে চলছে মানুষ
    আর ঝড়াপাতা শোনায় তার বুক চিড়ে আর্তনাদ।
    ঠিক যেমন করে মৃত্যুর পূর্বে ছটফট করে প্রাণ,
    বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টায়
    মাড়িয়ে যাওয়া ঝড়াপাতাগুলোও কেঁদে ওঠে শেষবারের মতন।

    ~ যারিন

    ঝড়াপাতা এ কোন মন্তব্য নেই
  • সমুদ্রসম ভালোবাসা

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    ভালবাসা সমুদ্রের মতন।
    সমুদ্রে যেমন জোয়াড় আসে, উত্তাল ও প্রবল হয় ঢেউ,
    তেমনি করে ভালোবাসাও ক্ষণে ক্ষণে উত্তাল হয়।
    সাইক্লোন বা ঝড় এলে সে ভালোবাসা হয় বিধ্বংসী, ধ্বংসলীলায় কত প্রাণের ক্ষতি করে ফেলবে তা জানা নেই।
    আবার ভাটাও আসে ভালোবাসায়, শীতল বায়ু বয়।
    ঢেউ কমে যায়, স্থিত হয় উত্তালতা। সমুদ্র হয় শান্ত, যেন সমুদ্র তখন নিজের অবস্থান ও খেয়ালে মন দিয়েছে।
    ভাটা এলে হয়তো মনে হতে পারে ভালোবাসা কমে এসেছে। কিন্তু তা ক্ষণিকের শান্তরুপ মাত্র। সমুদ্রের উপর বিশ্বাস না হারালে জানবে, আবার উত্তাল হবে সেই সমুদ্র, আবার আসবে ঝড়, আবার হবে প্রবলভাবে একে অপরকে কাছে টেনে নেওয়া ।

    ~ যারিন

    সমুদ্রসম ভালোবাসা এ কোন মন্তব্য নেই
  • মনুষ্যত্ব

    11/26/2023
    গদ্য ও পদ্য

    স্বার্থের জালে ঘেরা মানুষ
    মনের ঘরে শুধু স্বার্থের সঞ্চারণ,
    দরজার এককোণে দাঁড়িয়ে মনুষ্যত্ব ভাবে,
    কবে হবে সেই ঘরে আমার বিচরণ?

    আত্মঅহংকারে আমিত্বের বাইরে কিছু দেখতে না পারে,
    “আমি, আমিই” প্রধান চরিত্র যেখানে
    সেখানে আমি যে বহু তুমির সম্মিলন,
    তা উপলব্ধি করতে না পারে।
    চারিদিকে মানুষ যখন ক্ষুধার্ত, যুদ্ধে নিপীড়িত ও বাস্তুহারা,
    হৃদয় কাঁদে না তাতে –
    কাঁদে শুধু যখন পড়ে অর্থের ব্যবসায় ভাটা।

    জীবন যদি হয় দেওয়া-নেওয়ার,
    লাভ-লোকসানের খাতা,
    তাহলে সেই খাতায় থাকা চাই –
    কতটুকু নিলাম পৃথিবী থেকে
    ও কতটুকু দিয়ে গেলাম এই পৃথিবীকে
    তার হিসাবনামা।

    ~ যারিন

    মনুষ্যত্ব এ কোন মন্তব্য নেই
আগের পৃষ্ঠা
1 2 3

Blog at WordPress.com.

মেঘের গান

– যারিন সুবাহ্

  • About
  • Contact
  • গ্রাহক হন Subscribed
    • মেঘের গান
    • Already have a WordPress.com account? Log in now.
    • মেঘের গান
    • গ্রাহক হন Subscribed
    • নিবন্ধন
    • লগ ইন
    • Report this content
    • View site in Reader
    • সদস্যতা তৈরি করুন
    • Collapse this bar